বুধবার, ৬ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১৯

মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিক মাসুদ রানা

স্টাফ রিপোর্টার।

মিথ্যা মামলায় জাতীয় দৈনিক দি নিউ নেশন ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রতিনিধি মাসুদ রানাকে হয়রানি করায় বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা শাখার তিন ডিবি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইজিপি দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। একইসাথে পরিবারসহ তার নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার বেলা ১২টায় পুলিশ হেডকোয়াটার্সে উপস্থিত হয়ে ওই লিখিত অভিযোগ করেন।

মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এজাহার সাজানো ও ঘুষ গ্রহণ করায় ডিবির এসআই মসরুদ উদ্দিন বিপি (৮৪১৩১৫৪১১১) এবং এএসআই মোঃ ইছহাক হোসেনের বিরুদ্ধে মেট্রো পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেয়ার জের ধরে নিজ সহকর্মীদেরকে বাঁচাতে অপর ডিবি সদস্য ফিরোজ আলম (বিপি-৮৬১৩১৫২৬৭১) অনৈতিকভাবে সাংবাদিককে ঘটনার মদদ দাতা হিসেবে উল্লেখ করে ওই মামলার চার্জশিটে আসামি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে করেছেন ওই ভুক্তভোগী সাংবাদিক ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই মামলার এজাহার ভুক্ত আসামির বাইরে অজ্ঞাত বা পলাতক আসামি নেই। পাশাপাশি আসামিদের রিমান্ড কিংবা ১৬৪ ধারায়ও জবানবন্দী নেই । বিশেষজ্ঞ আইনজীবীরা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় কাউকে চার্জশিটে অর্ন্তভুক্ত করলে সেটা ন্যায় সংগত হয় না।

তথ্যসুত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ইসলামিয়া হোসেনিয়া মাদ্রাসা রোডে সাংবাদিকের পরিবারের মালিকানাধীন মেসার্স জীবন মেডিকেল হল নামে একটি ফার্মেসি রয়েছে।

গতবছরের ৫ নভেম্বরে সকাল ১১.২৩ মিনিটের সময় তার ছোট ভাই মোঃ মাহমুদুল হাসান জীবন ফার্মেসীতে বিক্রয় কাজে নিয়োজিত ছিল। সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ঐ সময় একজন ক্রেতা তার ভাইয়ের কাছ থেকে হইতে ২/৩ পিছ ড্রাগ ইন্টার ন্যাশনাল কোম্পানী এর এএইচ-৪০০ এ্যালবেন্ডাজোল গ্রুপের কৃমির ওষুধ কেনে।

এর ১৩ মিনিট পরে ঠিক ১১.৩৬ মিনিটে ঐ ক্রেতা সহ বরিশাল মহানগর ডিবির মসরুদ উদ্দিন (বিপি-৮৪১৩১৫৪১১১) নীল বর্ণের পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো কিছু ঔষধ নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে এবং দোকানের সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয় এবং নেশার ইঞ্জেকশন বিক্রি করছো বলে হুমকি দিয়ে দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ আনুমানিক ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা তুলে নেয়।

পাশাপাশি ডিবি পুলিশ ওষুদ প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা ছাড়াই দোকানে তল্লাশির নামে ওষুদপত্র এলোমেলো করতে থাকে। বিক্রেতা জীবন ডিবি পুলিশের এই কাজের প্রতিবাদ করায় তাকেসহ সোহেল নামে ক্রেতাকেও ডিবি অফিসে নিয়ে যায়।

তবে ডিবি অফিসে চলে যাওয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে সাংবাদিক মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি অফিসে দেখা করার কথা বলে চলে যান। পরে ডিবি অফিসে বসে ফার্মেসির বিক্রেতা মাহমুদুল হাসান জীবনের মোবাইল ফোন দিয়ে অভিযান টিমের সাথে থাকা ডিবির এএসআই মোঃ ইছহাক হোসেন সাংবাদিক মাসুদ রানা কে ডিবি অফিসে আসতে বলে। সেখানে যাওয়ার পর বিকাল ৩.০০ টার সময় সাংবাদিকের কাছ থেকে এ এস আই ইছাহাক নগরীর আমতলার মোড় পানির ট্যাংকি মডেল মসজিদের সামনে নিয়ে আসামি ছাড়ার কথা বলে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঘুষ নেয়।

কিন্তু টাকা নেওয়ার পরে ছেড়ে না দিয়ে উল্টো কোর্টে চালান করে দেয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মাসুদ রানা জানান, দুই ডিবি পুলিশের মাধ্যমে এই প্রতারণার শিকার হওয়ায় গতবছরের ৭ ডিসেম্বর ইংরেজি তারিখ বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশ কমিশনারের কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করি। আবেদনকৃত এই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রমাণ স্বরুপ ভিডিও, অডিও রেকডিং এবং লিখিত ও মৌখিক জবানবন্দী জমা দেই।

কিন্তু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি। বরং পুলিশ কমিশনারের কাছে কেন এই অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তার জের ধরে আমার আবেদনের অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে মামলার গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করে।

সাংবাদিক মাসুদ রানা আরো বলেন, যদি এজাহারভূক্ত আসামিদের ভাষ্য বা জবান বন্দী অনুযায়ী অপরাদের মদদ দিয়ে থাকি একইসাথে মামলার গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করে থাকি তাহলে দোকানে অভিযানের দিন কিংবা মামলা এজাহারের সময় আমাকে কেন গ্রেফতার করেনি ডিবি পুলিশের এই টিম?

হয়রানী করার উদ্দেশ্যে মামলার আসামি হিসেবে আমাকে অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এছাড়াও তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলার ষড়যন্ত্র ও বিভিন্ন থানার মামলায় আসামি হিসেবে নাম ঢুকিয়ে দিয়ে হয়রানি করতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে তথ্য পেয়ে আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রো পুলিশ কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান জানান, আমার কাছে অভিযোগ এসেছিলো আমি তদন্ত করতে একজনকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কোন অন্যায় কাজ হয়ে থাকলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।