বুধবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:১৭

সংবাদ প্রকাশের পর মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের দায়িত্ব নিলেন পুলিশ সুপার

“বরিশালে এক যুগ শিকল বন্দি যুবক” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন প্রশাসন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক লিখন হাওলাদারের খোঁজ খবর নিতে তার বাড়িতে ছুটে গেছেন। পাশাপাশি পরিবারের সম্মতিক্রম লিখনের চিকিৎসার সকল দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার।
ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার চেঙ্গুটিয়া গ্রামের। গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবদুর রব বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম স্যারের নির্দেশে আমি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দীর্ঘ একযুগ ধরে একটি অন্ধকার ঘরে শিকল বন্দি অবস্থায় থাকা লিখনকে দেখে তার বৃদ্ধ মায়ের সাথে কথা বলেছি। তার সম্মতিক্রমে চিকিৎসার বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করার পর তিনি লিখনের চিকিৎসার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। খুব শীঘ্রই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, লিখনের দিনমজুর পিতা শাহজাহান হাওলাদার তার একমাত্র পুত্রের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। গত রমজান মাসের শুরুতে তিনিও (শাহজাহান) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় এখন শষ্যাশয়ী রয়েছেন। ফলে তাদের পরিবারের করুন অবস্থা চলছে। এসব সমস্যা দূর করনের জন্য আমি সমাজের মহানুভব ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার জন্য আহবান করছি। অপরদিকে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা জানান, জনকণ্ঠ পত্রিকার খবর দেখে জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক লিখন হাওলদারকে (৩৪) অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে গত এক যুগ ধরে একটি অন্ধকার ঘরে শিকল বন্দি করে রাখা হয়েছে। একমাত্র পুত্র মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে শিকল বন্দি অপরদিকে স্বামী শষ্যাশয়ী থাকায় চরম বিপাকে পরেন শাহজাহানের বৃদ্ধ স্ত্রী রোকেয়া বেগম। অতিষ্ঠ হয়ে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, নিজের চোখের সামনে সন্তানের এ করুন দৃশ্য আর দেখতে পারছিনা। এরচেয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর দাবিও করেছি।