বুধবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ২:৪৯

মেহেন্দিগঞ্জে উপজেলা বিএনপির -৩ নেতার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দীন দীপেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্তা, উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন পিপলুর বিরুদ্ধে আ.লীগের সাথে আঁতাত, মাদক ব্যবসা এবং লাখ লাখ টাকার কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। ফলে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষা করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এখানকার বিএনপি চলছে মূলত আ.লীগের দিক নির্দেশনায়। শুধু তাই নয় দলীয় নেতাকর্মীদের আ.লীগের নেতাদের দিয়ে নানাভাবে হয়রানী করছেন বিএনপির এই তিন নেতা। দলের এই দু:সময়ে তারা দলীয় কোন কর্মসূচি পালনতো দূরের কথা তৃনমূলে কেউ কর্মসূচি পালন করলে সেখানে আ.লীগের লোকজন দিয়ে হামলা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে এই তিন নেতার সাথে স্থানীয় সাংসদ পংকজ নাথের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দীন দীপেন এলাকায় তার ব্যবসা বানিজ্য টিকিয়ে রাখতে গোপনে আ.লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এক যুগের বেশি বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। সারাদেশে নেতাকর্মীদের মাথায় ডজন ডজন মামলার খড়গ। কিন্তু দীপেনের নামে আজ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক মামলা দায়ের হয়নি।

গিয়াস উদ্দীন দীপেনের পরিবারের সবাই আ.লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। ১৯৭৩ সালে দীপেনের বাবা নেজামুল জোমাদ্দার ছিলেন উপজেলা আ.লীগের কোষাধ্যক্ষ। তৎকালীন আ.লীগের এমপি প্রায়ত মহিউদ্দীন আহমেদ মেহেন্দিগঞ্জ গিয়ে তার (নেজামুল) বাসায় থাকনে। মহিউদ্দীন আহমেদের বদৌলতে সেই সময় ব্যবসায়ীক লাইসেন্স পেয়ে টাকার মুখ দেখতে শুরু করে জোমাদ্দার পরিবার। অভিযোগ আছে দীপেনের বাবা এলাকার মানুষের উপর অনেক জুলুম নির্যাতন চলাতেন।
গিয়াসউদ্দীন দীপেনের তিন ভাই আ.লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। এরা হলেন- স্বপন জোমাদ্দার, সোহেল জোমাদ্দার, সেলিম জোমাদ্দার। এক ভাই নৌবাহিনীতে চাকরী করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, ‘ওয়ান ইলেভেনের সময় গিয়াসউদ্দীন দীপেনের ভাই মাদক ব্যবসায়ী যুবদল নেতা সালাহউদ্দীন পিপলু কোকো লঞ্চ মেহেন্দিগঞ্জ ঘাটে ভীড়তে দেয়নি। এরপরও উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয় পিপলুকে। তিনি (পিপলু) একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালে পটুয়াখালীতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় সালাহউদ্দীন পিপলুকে। ওই মামলা আদালতে বিচারাধীন। মাদকের সাথে যুক্ত থাকার বিষয়টি প্রমানিত হওয়ায় ৩ অক্টোবর উত্তর জেলা যুবদলের কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয় তারেক রহমানের নির্দেশে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, ‘ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুক্তা গত ৫ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্ক্রিয়। দলীয় কোন কর্মসূূচিতে তার দেখা মেলেনা। তিনি থাকেন বরিশাল মহানগরীতে। দলীয় কর্মসূচিতে না দেখা গেলেও দল বেঁচে টাকা আয় করছেন ঠিকই। মেহেন্দিগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন মুক্তা। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কমিটি করতেও বানিজ্য করেছেন তিনি।