বুধবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৫৯

চল্লিশের পর…

লাইফস্টাইল ডেস্ক: স্বাস্থ্য পরীক্ষা যে কোনো বয়সের জন্যই জরুরি। আর চল্লিশের পর এটা কিন্তু নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। বছরে নির্দিষ্ট একটি সময় আপনার চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। তবে এর আগে নিজেও কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে নিন, যা আপনার ভবিষ্যৎ সমস্যাগুলোকেও চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে

হেলথ স্ক্রিনিং
হেলথ স্ক্রিনিং হচ্ছে এমন এক ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যার ফলে শরীরে কোনো ধরনের উপশম হওয়ার আগে এ টেস্টের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যায়। কোন বয়সে কী ধরনের হেলথ স্ক্রিনিং টেস্ট করাবেন, তা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিন। এক্ষেত্রে আপনার বয়স যদি ৬৫ থেকে ৭৫-এর মধ্যে হয় এবং ধূমপানে অভ্যস্ত হন, তাহলে চিকিৎসককে আলট্রাসাউন্ড স্ক্রিনিংয়ের জন্য বলুন।

ডায়াবেটিস টেস্ট
ব্লাড পেসার ১৩৫/৮০-এর উপরে এবং সেজন্য যদি নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করেন, তাহলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা তার জন্য পরীক্ষা করান। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান, যাতে করে রক্তে কোলেস্টেরলের অনুপাত সম্পর্কে ধারণা পান।

বিএমআই ক্যালকুলেশন
আপনার চিকিৎসককে বলুন বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) পরীক্ষা করতে। বিএমআই টেস্ট হচ্ছে উচ্চতা অনুযায়ী ওজন কেমন হওয়া উচিত, তার পরীক্ষা। এতে করে জানতে পারবেন এ মুহূর্তে আপনার ওজন কমাতে হবে কিনা।

অস্টিওপোরোসিস চেকআপ
বয়স যাদের ৩৫ থেকে ৪০ ছাড়িয়েছে, তাদের জন্য হাড়ের একটি সমস্যার নাম অস্টিওপোরোসিস। বিশেষ করে নারীদের জন্য। শরীরের বিভিন্ন নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসককে বলুন অস্টিওপোরোসিস চেকআপ করতে।

খাদ্য তালিকা
বয়সভেদে বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্রয়োজন। তাই খাদ্য তালিকায় কী কী থাকবে, তা ঠিক করে নিন চিকিৎসকের পরামর্শে। ৪০ পার হয়ে গেলে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন হয় বেশি করে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, ফাইবার আর পটাশিয়াম। এ সময়ে খাদ্য তালিকায় সোডিয়াম আর স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

ভিটামিন গ্রহণ
শরীরের সঠিক পুষ্টির ভারসাম্য ধরে রাখাটা জরুরি। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করা যেতে পারে।

বিষণœতা
কয়েক সপ্তাহ ধরে মন ভালো নেই, কোনো কিছুতে উৎসাহ পাচ্ছেন না বছরখানেকÑ সব মিলিয়ে বিষণœতা ঘিরে রেখেছে আপনাকে। এ অবস্থায় ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। এক্ষেত্রে চিকিৎসক হয়তো সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দেবে আপনাকে।

ব্যায়াম
স্বাস্থ্যের বুড়িয়ে যাওয়া থেকে আপনাকে বিরত রাখবে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস। পাশাপাশি হাড় ভেঙে যাওয়া কিংবা মাংস পেশীতে শক্তি জোগাতে এর বিকল্প নেই। তাই ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন অ্যারোবিক্স, ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়াম নাকি শক্তি প্রশিক্ষণ কী ধরনের ব্যায়াম আপনার জন্য উপযোগী।

অন্যান্য
শুধু স্পেশালিস্ট চেকআপ নয়। নিয়ম করে চোখের জন্য ভিশণ স্ক্রিনিং এবং কানের ক্ষেত্রে আপনার শ্রবণক্ষমতা চেকআপ করান। এছাড়া অন্য যে কোনো সমস্যা নিয়েও চিকিৎসকের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন।