বুধবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:১৩

আদিবাসীদের মুখে হাঁসি পীরগাছার কুঁচিয়া রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার আদিবাসীদের সংগ্রহ করা কুঁচিয়া রপ্তানী করা হচ্ছে বিদেশে। আদিবাসীদের সংগ্রহ করা কুঁচিয়া এখন চীন, হংকং, তাইওয়ান ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। আর এ কুঁচিয়া ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লীর প্রায় শতাধিক পরিবার। ফলে কুচিয়া শিকার বেড়ে গেছে। তাই আদিবাসীদের মুখে ফুটেছে হাঁসি।
আদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বংশপরস্পরায় দীর্ঘদিন থেকে তারা খাল, বিল, নদী ও ডোবাসহ বিভিন্ন জলাশয় থেকে কুঁচিয়া মাছ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আগে বাজারে কুঁচিয়ার তেমন চাহিদা ছিল না। দামও ছিল কম। গত ২/৩ বছর ধরে বিদেশের্ প্তানী শুরু হওয়ার পর কুঁচিয়ার কদর বেড়েছে। দামও ভালো। আর এসব কুঁচিয়া মাছ কেনার জন্য উপজেলা কল্যাণী ইউনিয়নের তালুক কল্যাণী গ্রামে গড়ে উঠেছে আড়ৎ। প্রতি সপ্তাহে ওই আড়ত থেকে প্রচুর পরিমাণে কুঁচিয়া মাছ বিদেশে রফতানির জন্য পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। কুঁচিয়া মাছ মূলত অঞ্চলভেদে কুঁচে, কুঁইচ্চা, কুঁচিয়া বা কুঁচে বাইম নামেই পরিচিত। রাক্ষুসে স্বভাবের এ মাছের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ, জলজ পোকা ও প্রাণী। এরা মূলত অদ্ভুতভাবে মুখ দিয়ে বাচ্চা জন্ম দেয়। একটি মা মাছ একসঙ্গে সহ¯্রাধিক বাচ্চা দিতে পারে। বছরের নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত কুঁচিয়া মাছ ধরার মৌসুম হলেও এপ্রিল মাসে বেশি পরিমাণে কুঁচিয়া মাছ পাওয়া যায়। বিশেষ করে কুঁচিয়া মাছ মানুষ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের জন্যও খেয়ে থাকেন। প্রতিদিন একজন মংস্য শিকারি গড়ে ৪ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত কুঁচিয়া মাছ ধরেন।
আদিবাসী পল্লীর কুঁচিয়া মাছ শিকারি নিমাই চন্দ্র বলেন, ‘পুকুর অথবা জলাশয়ের ধারে ছোট ছোট গর্ত চিহ্নিত করে কুঁচিয়া মাছ ধরি। এসব কুঁচিয়া স্থানীয় ভাবে গড়ে ওঠা আড়তে বিক্রি করা হয়।
আরেক আদিবাসী সরেন প্রিয় চন্দ্র জানান, ‘প্রতিদিন সকালে দল বেঁধে কুঁচিয়া শিকারে বের হন তারা। সাধারণত প্রতি দলে সদস্য থাকে ২ থেকে ৩ জন। সারাদিন কুচিয়া ধরে সন্ধ্যায় আড়তে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি কুচিয়া ১৫০ থেকে ২শ টাকা কেজি। এভাবেই চলছে তাদের সংসার। বছরের বাকি মাসগুলোতে তাদের থাকতে হয় অর্নাহারে-অর্ধাহারে।
এ ব্যাপারে আড়ৎদার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা সরাসরি কুঁচিয়া বিদেশে পাঠাতে পারি না। আমরা স্থানীয় ভাবে সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাই। সেখান থেকে ঢাকার আড়ৎদাররা চীন, হংকং, ভারত ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেন।